পোস্টগুলি

কয়েকটি প্রশ্ন, একটি ভূমিকা

  পাঠিকা, পাঠক – আমি আশা করছি আপনি/তুমি/তুই ও নিজের অবস্থান ও তার নিজস্ব বিশ্লেষণের চেষ্টা নেবেন। উত্তর দেবেন কয়েকটি প্রশ্ন, একটি ভূমিকা “লিবারেল” গণ – অসৎ লিবারেল অথবা সৎ – সিলেটিতে “কানা, মনে মনে জানা”র সূত্রে – নিজেদের দৌড়, মোল্লা হেন, জানা আছে, কার কোন মশজিদ অবধি। এ’ও বহুযুগ বুঝিয়ে বলবার অপেক্ষা রাখেনা, যে, “লিবারেলি” গণ আদতে পেটি বুর্জোয়া। যা কিঞ্চিত বিশদ করা দরকার তা হলো এদের ভূমিকার বিশেষত্ব। লিবারেলি দল যায়, গেছে, যাবে – নানান মিটিং, মিছিলেও কিন্তু সে সকল মিটিং, মিছিল, কমিটি – কদাপি রাষ্ট্র নামক কাঠামোর বিরোধিতা করবেনা – গোপনেও। রাষ্ট্র যে একটি অমিমাংসিত দ্বন্দ্বকে ধামা চাপা রাখবার ব্যবস্থা মাত্র, ‘রাষ্ট্র’ এই কাঠামোটিকেই যে উপড়ে ফেলবার প্রয়োজন – এ তারা দুঃস্বপ্নেও, তিনশো পেগ রাম, হুইস্কি বা সাড়ে চারশো দশমিক তিন স্কচের পরেও ভাবেনা, ভাববে না। তারা অবলীলায় পদ্য লিখে শেষ লাইনে জুড়ে দেবে “আমি আরব গেরিলাদের সমর্থন করি” আর তা’ই দেখে “আমিও কম কিসে” জনিত মস্তিতে, আরেক লিবারেল উপন্যাসের নাম, যে উপন্যাস মূলত একটি যৌন পুস্তিকা, দিয়ে দেবে “আরব গেরিলাদের সমর্থন করি”। কিন্তু কখন? যখন এই ...

প্যালেস্টাইনের সংগ্রামী জনতাকে

  গাজা ভেঙ্গেছে দেওয়াল। কবে ভেঙ্গে যাবে দরজা? ফিরে পাবে সবে খোয়া গিয়েছিল যার যা? # এমনি এমনি কোনোই দেওয়াল কখনো পারেনা ভাঙ্গতে। একজোট হয়ে একে ও অনেকে হয় বোমা ছুঁড়ে মারতে। # বোমা ছুঁড়তেই হয়েছে, কেননা দেওয়াল তুলেছো তোমরা। ভেবেছো ডলারে কেনা সম্ভব সকলেরই প্রাণ-ভোমরা। # 'কারাগার' শুধু  নয় জেল-কোঠা। কারাগার  গোটা বিশ্ব। এবং কুবের সম্রাট তাই, বাদ বাকী সব নিঃস্ব। # নির্ণীত হয়ে গিয়েছে কবেই কে কার শত্রু, মিত্র —- প্রাণের সিংহ নিনাদে ভাঙবো দেওয়ালের  মানচিত্র।  সপ্তর্ষি বিশ্বাস  ০৮/১০/২০২৩ কলা "সমুদ্র-ঢেইএর মতো তোমার স্তনের ভাঁজে আমি জ্বলে উঠি, শাদা-ফসফরাস"। # পংক্তি দুটি আজই লিখলাম আর  তখনই প্যালেস্টাইনে ইজরায়েলি বোমা টুকরো টুকরো করে দিচ্ছে সদ্যোজাত শিশু থেকে  বাহাত্তুরে বুড়ো হাবড়াদের। তবু কি আশ্চর্য,দেখো, আমার প্রতিভাবলে  বারুদ, মানুষ-ভস্ম, তাদের চীৎকার –--- দাগও পারেনি ফেলতে আমার পংক্তি গুলি আর পীনোন্নত তোমার  স্তনেও। # "হৃদয়ের ছমছমে পথে নৈঃশব্দ্য বয়ে নিয়ে যায় স্মৃতির সারস" । # এ পংক্তি যখন লিখি, তখনো রাস্তাঘাটে, এ গ্রহেরই মনিপুর দেশে, সরকারী সিদ্...

প্রতিরোধ । ২ ।

ছবি
 প্রতিরোধ

প্রতিরোধ । ১ ।

ছবি
 প্রতিরোধ

'Our Trees Still Grow in Dehra'

'Our Trees Still Grow in Dehra', [ দেরাদুনে আরএসএস এর দ্বারা 'লিবারেশন'এর অফিস আক্রমণের প্রতিবাদে] 'দেহ্‌রাতে আমাদের বৃক্ষগুলি তথাপিও বাড়ে'। আমাদের রোয়া চারা গুলি তবু বাড়ে, দেরাদুনে, দুঃসাহসে বৃক্ষ হয়ে ওঠে। রাষ্ট্রীয় কাঠুরিয়া-দল দরিদ্র কাঠুরে দের লোপ করে দিয়ে স্বয়ং সেবক নাম নিয়ে যদিও চপার, ছুরি হাতে প্রতিদিন উঠে যাচ্ছে টিলায়, পাহাড়ে আমাদের রোয়া চারাগাছ, আমাদের ছায়াবৃক্ষ খুঁজে খুঁজে কেটে ফেলবে বলে 'আমাদের বৃক্ষগুলি, তথাপিও, দেহ্‌রাতেও, বাড়ে'। # হে সবুজ রাসকিন্‌ বন্ড, দেখা হবে, বৃক্ষতলে রক্তদাগ, রক্তছিঁটাগুলি গাছে গাছে প্রিয় লাল ফুল হয়ে গেলে।   ০৯/০৮/২০২২ বেঙ্গালোর

লাশকথা

লাশকথা "আমার মৃত্যুর সংবাদ পেলে মার কষ্ট হবে খুব। জানি। টের পাই। তাই যদি সরকারি চিঠি আমার মৃত্যুর সংবাদ নিয়ে আসে তোমাদের কাছে, মাকে জানিও না'। অগ্রজের কাছে এই পত্র লিখেছিল যে যুবক বড়জোর ছ মাস পরেই তার মৃতদেহ ভেসে উঠলো গলীপ্রান্তে, পুকুরের পানাঢাকা জলে। তার আগে পরে আরোও অনেক মৃতদেহ ভেসে উঠেছিল অথবা ওঠেনি।  কাটামুন্ডু নিয়ে সরকারের রথ চলে গেছে । হয়তো স্বর্গে গেছে অথবা নরকে । ফেলে রেখে গেছে মাঠে লাশ, মুন্ডহীন। ভোরবেলা হাওয়া খেতে গিয়ে ওই লাশে ধাক্কা খেয়ে পর্দার মহান নায়ক আঁতকে উঠেছে তবে কার লাশ জানতে পারেনি। খবরকাগজে হইচই তবু অথচ বেচারা নায়ক, আহা, জানেনা কিছুই। পরে আরেকজন নাটুকের আছে শুনেছিল আর তারপর  নায়ক এ বঙ্গ ছেড়ে দীর্ঘকাল বোম্বে বাসা নিলো। এইসব লাশেদের  কথা ভুলে গেছো? হয়তো ভুলোনি। তবে ময়নাতদন্ত নিয়ে মাথা ঘামিয়েছো? শুধু লাশদের নয় তাদের রক্তের? যাতে  মিশে আছে ইতিহাস, নেতাদের ভুলভ্রান্তি, অহং আর একের অনেক হয়েওঠা? ওঠার প্রবল ইচ্ছা? স্পর্ধা, দুঃসাহস? সেইসব লাশ নিয়ে আজ  কাটাকুটি বড় প্রয়োজন কেননা অদ্য সেই চিঠিপত্র, প্রমাণ ও দলিল মুছে দিচ্ছে, ইঁটের দেওয়াল থেকে ন...

'হ্যান্ডেলাইটিস্‌' ও ডলু বাগানের চা শ্রমিক-কর্মীরা

  'হ্যান্ডেলাইটিস্‌' ও ডলু বাগানের চা শ্রমিক-কর্মীরা সপ্তর্ষি বিশ্বাস   "কি বল্লে গা? হ্যান্ডেলাইটিস্‌? আহা! কি মিষ্টি নাম গো! অমন একটা রোগ আমার হতে পারেনা?" "আরে হ্যান্ডে না। হ্যান্ডে না, স্পন্ডে ..." মনে আছে সেই ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়কে? তাঁর কৌতুক নক্সাগুলো কে? না'কি 'ভকত' সাজতে গিয়ে বাঙ্গালী এসবও ভুলেছে? ভুলবে? আহা! কি মিষ্টি শব্দ! কি নিদারুন নাম 'মাওবাদী', 'আর্বান নক্সাল', 'দেশ্‌দ্রোহী' ...। কি দারুন ব্যবস্থা 'অপারেশান সমাধান'! আহা, 'ভকতেরা', জানেন তো, রামপ্রসাদ, কমলাকান্ত এঁরাও ছিলেন, না, 'ভকত' নয়। ভক্ত। মনে আসছে একটি শ্যামাগীতিঃ 'বল মা তারা দাঁড়াই কোথা'। সর্বত্র 'মাওবাদী' আমদানী করলে, এভাবে, হে 'ভকতেরা' দাঁড়াই কোথা আর আপনারাই বা কোথায় দাঁড়াবেন? আপনাদের চাল, চাতুরী, শঠতার পাশাপাশি আপনাদের মূর্খামিও জাহির হচ্ছে যে। সঙ্গে এ'ও কি হচ্ছেনা প্রমাণিত, যে, আপনারা আদতেই, অদ্যাপি, 'জুজু', 'কমিনিস্ট-জুজু' ভয়ে দেখছেন দুঃস্বপ্ন, দিবাস্বপ্ন, সঙ্গে বকছেন প...

“বেদনা কি ‘ভাষা’য় রে …”

“বেদনা কি ‘ভাষা’য় রে …” সপ্তর্ষি বিশ্বাস   ১। ভাষা, হায়, সে'ও হয় "ক্ষমতা-খেলা"র একটি ঘুঁটি। যেখানে দাঁড়িয়ে আছি, একা আমি নই, আমি, তুমি, আমরা সকলে, তা আদতে দ্বীপ নয়। তা আদতে একটি বিরাট তিমিমাছের পিঠ। ওই তিমি মাছ আস্তে আস্তে ডুবে যাচ্ছে। দেখছো না, সেদিনো যেখানে ছিল মানুষের বাস বসত, আজ সেখানেই হাহাকার, কান্নাকাটি, মাথায় হাত দিয়ে বসা শনচুল বুড়ি, রুগ্ন মুখ কাচ্চাবাচ্চারা, ভীত সন্ত্রস্ত বৌ'ঝি রা, কাচ্চাবাচ্চাগুলির বাপ-কাকা-মামা'রা। তাদের ঘিরে আছে ধ্বংস। তাদের ঘিরে আছে হাহাকার, বুলডোজার, লোভ, প্রতিশোধ আরো অনেক অনেক কিছু যা অন্ধকার, যা বিষাক্ত। ভেঙ্গে দেওয়া হয়েছে এদের ঘর। এদের কুঁড়েঘর, এদের বস্তিকোঠা, এদের তোলা উনুন, নামিয়ে দেওয়া হয়েছে রাস্তায়। এই ভেঙ্গে দেওয়ার, রাস্তায় নামিয়ে দেওয়ার ছবি তুলেছে সংবাদ-নির্মাতা আর বিক্রেতারা। ভিডিও শ্যুট করেছে বুলডোজারে বসে। হেসেছে। বলেছে 'এখন বুঝুক মজা। যতোসব বাংলাদেশী, উইপোকার দল। সরকারের জমি দখল করার ঠ্যালা সামলাক এখন ..." এদিকে একটি মধ্যরাত, যখন বুলডোজার ঝাঁপিয়ে পড়েছিল, যখন তারা হয়তো ছিল ঘুমমত, হয়তো দিনের কাজের শেষে ...